মাদরাসা দারুস সুন্নাহ, মিরপুর, ঢাকায় আপনাকে স্বাগতম
মাদরাসা দারুস সুন্নাহ ও মাসজিদ বাইতুল হক্ব এর ইতিহাস ১৯৮০ সালে পৌনে এক কাঠা জমির একটি প্লটের উপরে ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে মক্তব আকারে ঢাকা মহানগরীর ১২ নং সেকশনের পল্লবী থানার ধ ব্লকে মাদরাসা দারুস সুন্নাহ ও মাসজিদ বাইতুল হক্ব এর পদযাত্রা। এর একবছর পরেই পৌনে এক কাঠার একটি প্লট ক্রয় করে দুই প্লটকে একত্রিত করে সেখানে ওয়াক্তিয়া জামা'আত আরম্ভ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে ওয়াক্তিয়া মাসজিদ থেকে জুম'আ মাসজিদে রূপ দেওয়া হয় এবং নামকরণ করা হয় “মাসজিদ বায়তুল হক্ব “নামে। এ জুম'আ মাসজিদে প্রথম খতিব হিসেবে খুতবা প্রদান করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন শাইখ মোহাম্মদ আলী সিলেটি রাহিমাহুল্লাহ। মাসজিদটি সহিহ আক্বিদার ভাইদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার দরুন ভিন্ন মতাদর্শী ও উগ্রপন্থীরা মাসজিদটি অপসারণের জন্য দিনরাত ঘৃণিত অপচেষ্টা চালায় ও বিভিন্নভাবে মুসল্লিদেরকে নির্যাতন করতে থাকে । ১৯৯৪ সালে নির্বাচিত ঢাকা উত্তরের প্রথম মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ হানিফকে উক্ত মাসজিদে পদচারণার মাধ্যমে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসল্লীরা আশার আলো দেখে । তিনি বাদ মাগরিব উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে সহিহ আক্বিদাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং মাসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজের ফলক উন্মোচন করেন। যার ফলশ্রুতিতে বিরুদ্ধ আক্বিদাহ পোষণকারীদের উৎপাত অনেকাংশেই কমে যায়। ঠিক একই সময়ে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিসের তৎকালীন মাননীয় সভাপতি মহোদয় রাহিমাহুল্লাহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সভায় মাদরাসা ও মাসজিদের উন্নয়নের জন্য দেশি- বিদেশী দাতাগণের নিকট আর্থিক সহায়তার আবেদন রাখতেন। পাশাপাশি মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকটও আবেদন রাখতেন। যার ফলে তারা মাদরাসা ও মাসজিদ উন্নয়নের জন্য অনুদানের হাত প্রসারিত করেছিলেন। এভাবেই ধীরে ধীরে উক্ত মাদরাসা ও মাসজিদ দিন দিন উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে থাকে । অতঃপর ১৯৯১ সালে ৬২৮ নং বাসার প্লট এবং ১৯৯৯ সালে ১২১ নং বাসার প্লট ক্রয় করে ছাত্রদের জন্য আবাসনের সুব্যবস্থা করা হয় এবং আরো বিভিন্নভাবে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে। ২০০৩ সালের পহেলা আগস্টে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিসের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তৎকালীন সভাপতি মহোদয়কে সভাপতি করে একটি নবকমিটি গঠন করা হয়। কুয়েত ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা 'জমিয়ত ইহইয়াউত তুরাস' বর্তমান মাসজিদের পাঁচতলা ভবনটির নির্মাণ কার্য ২০০৪ সালে শুরু করে প্রায় চার বছরে তা সম্পন্ন করে । এ কাজটি সম্পন্ন করার জন্য উক্ত সংস্থায় চাকুরীরত বাংলাদেশী শায়েখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম মাদানী হাফিজাহুল্লাহর অবদান অবিস্মরণীয়। সেই সাথে তৎকালীন প্রিন্সিপাল মহোদয় দাতা সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে নির্মাণ কাজটি সূচারুভাবে সম্পন্ন করেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালে বর্তমান প্রিন্সিপাল সাহেব আব্দুর নূর মাদানী হাফিজাহুল্লাহ এর হাত ধরে মাদরাসার মহিলা শাখাও চালু করা হয় (ফালিল্লাহিল হামদ)। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি বিভিন্ন বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে আলেম-উলামা ও সহিহ আক্বিদা সম্পন্ন হিতৈষী ভাইদের ঐকান্তিক অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১৬ সালে এসে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মাদরাসা কুল্লিয়া/দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) পর্যন্ত উন্নিত হয়। বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিস ও মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এর আক্বিদা বিভাগের প্রধান শায়েখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল আক্বীল এর সহযোগিতা নিয়ে ২০১৫ সালের মার্চ মাসে মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই মাদরাসার মুয়াদালাহ বা বিশেষ নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। এই মুয়াদালাহ সম্পন্ন হতে যারা অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, মাদরাসার তৎকালীন সভাপতি, সাবেক অধ্যক্ষ, বর্তমান অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সিনিয়র ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ (হাফিজাহুমুল্লাহ) এবং মাদরাসার শুভাকাঙ্খী সদস্যবৃন্দ প্রমুখ। এরপর ২০২২ সালে এসে আবারও নবকমিটি গঠন করার মাধ্যমে অদ্যাবধি উক্ত প্রতিষ্ঠান ও মাসজিদটি সূচারুভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষা ও অপেক্ষার পর ২০২৩ সালে এসে পূর্ব পরিকল্পনানুপাতে প্রস্তাবিত একাডেমিক ভবনগুলোর একটি ভবনের ৮তলার নির্মাণ কাজ হয়েছে। ২০২৫ সালে আরো একটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে (ফালিল্লাহিল হামদ)। পরিশেষে উক্ত মাসজিদ- মাদরাসার উন্নয়নকল্পে যে সকল হিতৈষী ব্যক্তিবর্গ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মেধা, কার্যকরীশ্রম ও অর্থ দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন এবং করে যাচ্ছেন তাদের সৎ কাজগুলো মহান আল্লাহ কবুল করুন ও ভুল ত্রুটি মার্জনা করুন। সাথে সাথে উক্ত মাসজিদ-মাদরাসার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক এ দোয়া ও কামনাই করি । (আমীন)